স্টাফ রিপোর্টার যশোর।। যশোরে ইব্রাহিম হোসেন নামে ছাত্রদলের স্থানীয় এক নেতা ও তার বন্ধুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে।
ঘটনার একদিন পার হলেও পরিবারের সদস্যরা যশোরের র্যাব ও পুলিশের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজ পাননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ওই নামে কাউকে আটক করেনি।
এদিকে, ‘উঠিয়ে নেওয়া’ ছাত্রদল নেতাকে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নিখোঁজ ইব্রাহিম হোসেন যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও নতুনহাট গ্রামের মাহবুব মোল্লার ছেলে। আর তার বন্ধু রিপনের বাড়ি সদর উপজেলার মেঘলা গ্রামে।
ইব্রাহিমের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়ির কাছে ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানি বাজার থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক তার ভাই ও তার বন্ধু রিপনকে একটি মাইক্রোবাসে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে ‘অপহরণকারীরা’ নিজেদের র্যাব পরিচয় দিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এরপর থেকে ওই দুইজনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই দুইজন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দুই মোটরসাইকেলে লুঙি পরা চার ব্যক্তি এসে তাদেরকে ধরেন। এসময় দুইজনই চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে আটককারীরা লুঙি খুলে ফেলেন। তখন দেখা যায় তারা প্যান্ট পরিহিত। এসময় ওই লোকেরা দাবি করেন, তারা র্যাবের সদস্য, কেউ যেন কাছে না আসে। এরপর একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস এসে তাদেরকে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা লোকেরা বলছেন, মোটরসাইকেল ও গাড়ি দেখে এবং আগন্তুকদের আচরণে মনে হয়েছে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক।
ভাই আব্দুল্লাহ জানান, ওই রাত থেকেই তারা ঝিকরগাছা ও যশোর কোতয়ালী থানা, ডিবি পুলিশের দফতরে গিয়েও ‘অপহৃতদের’ সন্ধান পাননি।
তিনি বলেন, র্যাব অফিসে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সামনে কর্তব্যরত একজন র্যাব সদস্য বলেন, তার ভাইকে ধরা হলে খোঁজ পাওয়া যাবে, এখন ভেতরে যাওয়া যাবে না।
নিখোঁজ ইব্রাহিমের মা নুরজাহান বেগম বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে নাশকতার ‘রাজনৈতিক’ মামলা রয়েছে বেশ কয়েকটি। এছাড়া অন্য কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে।
ছেলে অপহরণের ঘটনায় তারা থানায় মামলা করবেন বলে জানান।
ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেসবাহ উদ্দিন বলেন, তারা এ ধরনের কোনো অভিযান চালাননি। একই কথা বলেন, যশোরের ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মেদ। যশোর র্যাব অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ইব্রাহিম ও রিপন নামে কাউকে তারা আটক করেননি।
এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাত্রদল নেতা মো. ইব্রাহিম হোসেনকে আটক করেছে, কিন্ত তার কোনো হদিস দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা আতঙ্কজনক। করোনাভাইরাসের মহামারির সময়েও জনগণকে রক্ষার যথাযথ উদ্যোগ না নিয়ে বরং বিরোধীদল ও মত দমনে সরকার হিংস্র রূপ ধারণ করেছে।’রোববার বিকেলে দলের সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন এই বিবৃতি পাঠান।